বাতিল নয়, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কার হবে : আইনমন্ত্রী
বাতিল নয়; আইনের সমস্যা দূর করে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৩ উপলক্ষে ‘শেপিং এ ফিউচার অফ রাইটস’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল হবে না। আইনের মধ্যেই সাংবাদিকদের, যারা সত্য সাংবাদিকতা করেন, তাদের সুরক্ষার জন্য অবশ্যই প্রভিশন থাকবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ আইন সংস্কার হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় মন্ত্রী আরো বলেছেন, সরকার গঠনের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ফলে আজ বাংলাদেশে আনলাইন মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব ঘটেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার অনলাইন মিডিয়া নিউজ পেপার কাজ করছে। এর পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে। এসব মিডিয়ায় দেশের কোটি কোটি মানুষ অবাধে সংবাদ ও মতামত প্রকাশ করছে। ফলে মিডিয়া এখন অনেক স্বাধীন। ইলেকট্রক্স মিডিয়া সংবাদের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। কাজেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধে সরকার কাজ করছে।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমস্যা দূর করে এটাকে সর্বসাধারণ আইন করা হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কখনোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করবেন না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য প্রণয়ন করা হয়নি। আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি, এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, শুধুমাত্র সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য। আমি আপনাদের নিশ্চিত করেই বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কখনও সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতা হরণ করবে না। কারণ বঙ্গবন্ধু তার দেওয়া সংবিধানে সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দানসহ একে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন’।
সাইবার অপরাধ দমনের জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম. ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে আইন প্রণয়নের উদাহরণ টেনে আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি আইন প্রণয়ন করেছে। আইনটি প্রণয়নের পূর্বে এডিটরস কাউন্সিল, এটকো, সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করা হয়। এমনকি এই আলোচনার দ্বার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আইনটি বাস্তবায়নের প্রথম দিকে, এর কিছু মিসইউজ ও অ্যাবিউজ হয়েছে- এটি আমি অস্বীকার করবো না। তবে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সেই মিসইউজ ও অ্যাবিউজ আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। আমরা এসব মিসইউজ ও অ্যাবিউজ আরও কমানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-কে পরিশুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডে, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের ইনচার্জ সুজান ভাইজ, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. গীতি আরা নাসরিন, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়লেও স্বাধীন সাংবাদিকতা কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম যাতে বিনা বাধায় নিজ ভূমিকা পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা।







